হিলি লেক ক্যাসেল
আলীকদমের হিলি লেক ক্যাসেল

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার পাহাড়ি জলাশয় ‘হিলি লেক ক্যাসেল’ হতে পারে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা। উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে এর অবস্থান। গত কয়েক বছর আগে সরকারি অর্থে মাছ চাষের জন্য কৃত্রিম জলাশয় সৃষ্টি করা হয়। এ জলাশয় ঘিরে রয়েছে পাহাড়। সেখানে কটেজ নির্মাণ করে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে ঢাকাভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থা।

সম্প্রতি এলাকাটি ঘুরে দেখেছেন ইউএনও মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ মোস্তফা জামান, ওসি কাজী সাইদুর রহমান, স্থানীয় প্রেসক্লাব সভাপতি ও সাংবাদিকরা।

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার পাহাড়ি ক্রিকে মৎস্যচাষ’ প্রকল্পের আওতায় বছর তিনেক আগে নাইক্ষ্যংঝিরির উথোয়াই মার্মার মালিকানাধীন জমিতে জলাশয়টি সৃজন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। জলাশর ঘিরে রয়েছে পাহাড়। এখন মাছচাষের সীমানা ছাড়িয়ে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে এই জলাশয়।

নির্জন পাহাড়ের বুকের জলাশয়টিকে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন উথোয়াই মার্মা। তিনি যোগাযোগ করেন ঢাকার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মাল্টিলিঙ্কেজ লিঃ এর সাথে। তারা জলাশয়টি নামকরণ করেন ‘হিলি লেক ক্যাসেল’। তাদের পরিকল্পনায় লেকের কুলে নির্মিত হচ্ছে কাঠ-বাঁশ দিয়ে কটেজ। সরকারি অনুমতি পেলে বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়া হবে সেসব কটেজ।

প্রস্তাবিত ‘হিলি লেক ক্যাসেল’ এর পাশের দুটি পাহাড়ে উ থোয়াই মারমার জমি ছাড়াও রয়েছে ৫০/৬০ একর সরকারি খাস জমি। বিজ্ঞান ও পরিবেশ সচেতন চিন্তা-চেতনানির্ভর এবং পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার সংযোজন ঘটানো গেলে ‘হিলি লেক ক্যাসেল’ হয়ে ওঠবে প্রাকৃতিক পরিবেশের এক অনন্য পর্যটনকেন্দ্র।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রস্তাবিত এই পর্যটন কেন্দ্র পরিচালনা করা যেতে পারে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সৃষ্ট কৃত্রিম এই লেক দৈর্ঘ্যে প্রায় ২০০ ফুট এবং প্রস্থে কোথাও ৫০, কোথাও ৩০ ফুট। ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীরতার লেকে সম্প্রতি সংযোজন করা হয়েছে কাঠের একটি নৈৗকা। নৌকায় চড়ে বঠা চালিয়ে লেকের এপার থেকে ওপারে ঘুরে বেড়ানো যায়।

মাল্টিলিঙ্কেজ লিঃ প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির জানান, তারা প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কাজ করা হয়েছে। অনুমোদনের পর এলাকাটি পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলা হবে।

যেভাবে যাবেন: আলীকদম বাস স্টেশন থেকে লামা-আলীকদম সড়কের তারাবুনিয়ায় নামতে হবে। সেখান থেকে উত্তরদিকে কাঁচা মাটির রাস্তা ধরে বাইকে অথবা পায়ে হেটে দুই কিলোমিটার এগুলেই নাইক্ষ্যংঝিরির বুকে ‘হিলি লেক ক্যাসেল’ দেখা যায়!

লেখক: মমতাজ উদ্দিন আহমদ. সভাপতি, আলীকদম প্রেসক্লাব। 

আলীকদমের ‘হিলি লেক ক্যাসেল’ : পর্যটনের নতুন দ্বার

আপনার মতামত দিন....

মতামত